এফএ কাপের ফাইনাল, চেলসি বনাম ম্যানচেস্টার সিটি।
এই দুই দল প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে এ মৌসুমে ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ছিল। ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয়, চেলসি নবম। শুধু লিগের অবস্থান দেখলে, এটিকে নিঃসন্দেহে একপেশে লড়াই মনে হতে পারে। কিন্তু এফএ কাপের ফাইনাল কখনওই লিগের বাড়তি অংশ নয়, আর ওয়েম্বলির ঘাসের মাঠেরও আছে নিজের নিয়ম।
চেলসি যখন এই মাঠে পা রাখছে, তাদের কাঁধে রয়েছে কিছু চিন্তাজনক পরিসংখ্যান—লিগে টানা ছয় ম্যাচে জয়হীন, আর শেষ পাঁচ ম্যাচে মাত্র দুটি গোল। আক্রমণভাগের নিষ্প্রভতা এই দলকে লিগ টেবিলে ক্রমেই নিচে নামিয়ে এনেছে, পালমারের ফর্মও ওঠানামা করছে, আর কাইসেদোকে একা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে লড়াই করতে হচ্ছে। তবে কাপ প্রতিযোগিতা আরেকটি ভিন্ন সময়রেখা। এফএ কাপে চেলসি লিডস ইউনাইটেডকে বিদায় করেছে, তারপর সাত গোলের ঝড় তুলে ভিয়ার্গ পোর্টকে হারিয়েছে; এই প্রতিযোগিতায় তারা লিগে হারিয়ে ফেলা জিনিসগুলো খুঁজে পেয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটির রেকর্ড অনেক বেশি উজ্জ্বল। শেষ দশ ম্যাচে আট জয়, এক ড্র, এক হার; আক্রমণভাগে ম্যাচপ্রতি দুই গোলেরও বেশি উৎপাদন, আর ফোডেন ও মারমুশের ফ্রন্টলাইনের বোঝাপড়া পুরো মৌসুম ধরে ধারালো হয়েছে। তবে ম্যানচেস্টার সিটির ইনজুরি তালিকায় কয়েকটি উপেক্ষা করার মতো নয় এমন নাম আছে—দিয়াসের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট, গভারদিওলও অনুপস্থিত; এর মানে রক্ষণভাগের কেন্দ্র থেকে দুইটি ভরকেন্দ্রই ছিটকে গেছে।
চেলসি শেষ কবে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অনেক পেছনের ক্যালেন্ডার উল্টে দেখতে হবে। কিন্তু ফাইনালের সবচেয়ে চমৎকার দিক হলো, এটি আগের সবকিছুর তোয়াক্কা করে না। দুই দল ওয়েম্বলিতে পা রাখার মুহূর্তেই, সব ইতিহাস বাইরের দরজায় তালাবদ্ধ হয়ে যায়। চেলসির সংকট বাস্তব, ম্যানচেস্টার সিটির প্রাধান্যও বাস্তব। কিন্তু ৯০ মিনিটে, বাস্তব মানেই অনিবার্য নয়।
নিরপেক্ষ মাঠে চেলসিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যেতে পারে।