জার্মানির রোটেশনের পরিমাণটা একেবারেই স্পষ্ট। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ফেলার পর এই ম্যাচে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়াই স্বাভাবিক। তাদের বদলি তালিকাটা একটু দেখলেই বোঝা যায়, এই খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই ক্লাবে চলতি মৌসুমে আধা-নিয়মিত ভূমিকায় আছে, আর জাতীয় দলের পর্যায়ে একসঙ্গে অনুশীলনের ম্যাচসংখ্যা মোটে ৫টিরও কম। ফলে আক্রমণভাগের পাস-রান্না ও সমন্বয়ের বোঝাপড়া সরাসরি অর্ধেকে নেমে আসে। আগের ম্যাচগুলোতে পূর্ণ শক্তির দল প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারত উচ্চ-চাপের প্রেসিং আর দুই প্রান্তে টানা আক্রমণের জোরে; কিন্তু রোটেশনের পর পুরো দলের প্রেসিং কভারেজ আর দৌড়ানোর তীব্রতা অন্তত ২০ শতাংশ কমে যাবে, ফলে ইকুয়েডরকে নিজেদের অর্ধে চেপে ধরে টানা আক্রমণ চালানো কার্যত অসম্ভব। কোচিং স্টাফের জন্য ম্যাচ জেতা, ইনজুরি এড়ানো এবং রিজার্ভ স্কোয়াডকে ম্যাচে মানিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট; বড় ব্যবধানে জয়ের জন্য ঝুঁকি নেওয়ার দরকার নেই।
এবার ইকুয়েডরের রক্ষণের মৌলিক শক্তির দিকে তাকাই। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই রাউন্ডে তাদের ডিফেন্সিভ থার্ডে ট্যাকল জয়ের হার ৭৫ শতাংশের বেশি, এবং গড়ে শারীরিক লড়াইয়ে তারা ৪২ বার জয় পেয়েছে—দক্ষিণ আমেরিকান দলের লড়াকু স্বভাব আর সংকুচিত হয়ে রক্ষণের দৃঢ়তা স্পষ্ট। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখে তারা যখন ৫-৪-১ ছকে গুটিয়ে দাঁড়ায়, তখন মাঝখানের রক্ষণভাগের ফাঁকফোকর একেবারে চেপে বসাতে পারে; প্রতিপক্ষকে এই লাইন ভাঙতে হলে মূলত দূরপাল্লার শট আর সেট-পিসের ওপরই ভরসা করতে হয়, ফলে ওপেন-প্লেতে গোল করার কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, তাদের সামনে এখনও নকআউটে ওঠার তাত্ত্বিক সুযোগ রয়ে গেছে; এই ম্যাচ তাদের কাছে পয়েন্টের জন্য জীবন-মরণ লড়াই, তাই রোটেশনে থাকা জার্মানির তুলনায় তাদের জয়ের তাগিদ অনেক বেশি। পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের রক্ষণে মনোযোগ আর দৌড়ঝাঁপ সর্বোচ্চ থাকবে। ইকুয়েডর অন্তত হারের ব্যবধানটা ধরে রাখবে বলেই মনে হচ্ছে!