মরক্কোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার—গ্রুপে শীর্ষে উঠতে হলে গোল ব্যবধান বাড়াতেই হবে। এখন তাদের পয়েন্ট ব্রাজিলের সমান ৪, কিন্তু গোল ব্যবধানে দুই গোল কম। একেবারে আক্রমণাত্মক না খেললে শীর্ষস্থান পাওয়া সম্ভব নয়। আর এই মরক্কো দল শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে দারুণ দক্ষ। টানা ৩১ ম্যাচে অপরাজিত এই দলটি প্রথমার্ধে কখনও পিছিয়ে পড়েনি, ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। হাইতির মতো স্তরের রক্ষণভাগের বিপক্ষে দ্রুত গোল হওয়াই প্রায় নিশ্চিত ঘটনা; একবার দরজা খুলে গেলে পরে আর থামানো কঠিন।
অন্যদিকে, হাইতি আগেই ছিটকে গেছে, বরং এখন তাদের ওপর কোনো চাপ নেই। যেহেতু বাড়ি ফিরতেই হবে, তাই অন্তত নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের জন্য লড়াই করাই ভালো। ম্যাচের আগে কোচও বলেছেন, তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়বেন। আর সম্ভাবনা বেশি যে রোটেশন করে বদলি খেলোয়াড়দের নামানো হবে। বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে বদলি ফুটবলাররা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেই, তাই মূল একাদশের মতো রক্ষণশীল থাকার কথা নয়। এমন সম্মানের লড়াইয়ে খেলা বরং বেশি খোলা হতে পারে; দুই দলই যদি রক্ষণে খুব একটা মন না দেয়, তাহলে গোলসংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে।
অবশ্য ঝুঁকিও একেবারে নেই তা নয়। মরক্কোর রক্ষণ সত্যিই শক্ত, তাই হাইতির গোল করা সহজ হবে না; আবার মরক্কো যদি শুরুতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তাহলে পরে তারা গতি কমিয়ে খেলতে পারে। তবে সব মিলিয়ে ৩ গোলের এই সীমা মরক্কোর আক্রমণশক্তি আর হাইতির রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—দুটো মিলিয়ে ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনাই আমার কাছে বেশি।