সোজা কথা বলতে গেলে, দক্ষিণ কোরিয়াকে ০.৭৫ গোলের ব্যবধানে ফেভারিট ধরা একেবারেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত—এতে তাদের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেখা হয়নি, আবার দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাঠে লড়ে যাওয়ার মানসিকতাকেও খাটো করা হয়নি।
শক্তির ফারাকটা স্পষ্ট: দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ মূল খেলোয়াড়ই ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলেছেন, পুরো দলের বাজারমূল্য দক্ষিণ আফ্রিকার চার গুণ, আর গত দশ ম্যাচে তাদের প্রত্যাশিত গোল (xG) স্থির আছে ১.৩-এর আশেপাশে। কনট্রা অ্যাটাক থেকে বল এগিয়ে নেওয়ার দক্ষতায় তারা এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে সেরা সারির। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভিত্তি মূলত দেশীয় ফুটবলারনির্ভর; সংগঠিত আক্রমণে তাদের স্পষ্ট ছক নেই। দুই রাউন্ডের গ্রুপ পর্বে তারা মাত্র ১টি গোল করেছে, আর মূলত উইং থেকে ক্রস ও সেট-পিসের ওপর নির্ভর করেই হুমকি তৈরি করেছে।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগ্যতা অর্জনের সমীকরণ থেকে আসা মানসিক ব্যবধান: দক্ষিণ কোরিয়া শুধু ড্র করলেই নিশ্চিতভাবে পরের পর্বে চলে যাবে, তাই তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত সামনে ওঠার দরকার নেই; ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করাই হবে সেরা কৌশল। দক্ষিণ আফ্রিকা হারলেই বিদায়, তাই তারা বাধ্য হয়েই শেষ দিকে পুরো দলকে এগিয়ে দিয়ে সবকিছু বাজি ধরবে—যা উল্টো সন হিউং-মিনদের জন্য বড় কনট্রা অ্যাটাক স্পেস তৈরি করে দেবে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া যে অনায়াসে দুই গোলের ব্যবধানে জিতবে, এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার-ব্যাকদের হেডে জয়ের সাফল্যের হার ৬০%, আর উঁচু বল সামলানোই দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাভাবিক দুর্বলতার একটি। তাই হোম টিমের সেট-পিস থেকে একটা গোল চুরি করার সম্ভাবনাও কম নয়। স্বাভাবিক ম্যাচ চিত্র হবে—দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখবে, কনট্রা অ্যাটাক থেকে এক গোলের লিড নেবে, আর অল্প ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে। তাই অতিথি দলকে -০.৭৫ ধরা একেবারেই এই প্রত্যাশার সঙ্গে মানানসই, এবং মূল্যও বেশ ভালো।