আমার মডেল ইকুয়েডরকে ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত দল’ হিসেবে দেখছে না। তারা প্রথম ম্যাচে হেরেছে, কিন্তু দলের গঠনগত দিক থেকে দেখলে একেবারে কিছুই নেই—এমনও নয়। আসল যেটা খেয়াল রাখতে হবে, তারা এখন গ্রুপের সবচেয়ে বেশি রক্ষণাত্মক চাপ থাকা দলের মুখোমুখি হচ্ছে, আর এই ম্যাচে ইকুয়েডরের জন্য প্রায় পয়েন্ট তোলাই বাধ্যতামূলক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ইকুয়েডরের শক্তি ঝলমলে আক্রমণে নয়, বরং সামগ্রিক কাঠামোতে। রক্ষণভাগে আছে শারীরিক শক্তি ও দ্বৈরথে লড়াই করার ক্ষমতা, মাঝমাঠে কেইসেডোর মতো এমন এক কোর খেলোয়াড় আছে যে গতি নিয়ন্ত্রণ ও জায়গা ঢেকে রাখতে পারে, আর সামনে এননার ভ্যালেন্সিয়ার মতো অভিজ্ঞতার ভরসাও রয়েছে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ইকুয়েডরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুন্দর ফুটবল খেলা নয়, বরং ম্যাচটাকে কতটা সময় ধরে প্রতিপক্ষের অর্ধে আটকে রাখা যায়, কতটা প্রতিআক্রমণের জায়গা কমানো যায়, এবং ধারাবাহিকভাবে বক্সে চাপ তৈরি করা যায় কি না।
কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ-গল্প অনুপ্রেরণাদায়ক ঠিকই, কিন্তু এশিয়ান হ্যান্ডিক্যাপ আর ম্যাচ বিশ্লেষণে শুধু গল্প দেখলে হবে না। জার্মানির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-৭ গোলে হার দেখিয়ে দিয়েছে, তাদের রক্ষণভাগের গতি, বক্স রক্ষা এবং ৯০ মিনিটের মনোসংযোগের ঘাটতি কোথায়। জার্মানির বিপক্ষে তারা আবেগ দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পেরেছিল, কিন্তু জিততেই হবে—এমন এক দক্ষিণ আমেরিকান দলের সামনে শুধু মানসিক শক্তি যথেষ্ট নয়।
এই ম্যাচে আমি বড় ব্যবধানের হ্যান্ডিক্যাপ ধরছি না। ইকুয়েডর কত গোলে জিতবে, সেটাই সবচেয়ে নিরাপদ প্রশ্ন নয়; সবচেয়ে নিরাপদ হলো, তারা ম্যাচটা জিতে নেবে কি না—সেটাই।